Home Alipurduar অস্ত্রপচার করে নজির গড়ল আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতাল

অস্ত্রপচার করে নজির গড়ল আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতাল

180
0

আলিপুরদুয়ার , ২৭ এপ্রিল : ফের নজির আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতালের।অসম্ভব কে সম্ভব করে তুলেছে আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতাল। বাইসনের গুতোয় পেট বুক চিরে দেওয়া রোগীকে বাঁচিয়ে তুললো আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ । এক সাথে চারটি অপারেশন করা হয়েছে বাইসনের গুতোয় জখম পিরা টুডুকে।ফুটো ফুসফুস,স্প্রিহা, বৃহদন্ত্র চিকিৎসা করে  নজির তৈরি করেছে আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতাল। একসাথে চার চারটি অপারেশন করে রোগীকে বাঁচিয়ে তোলা হয়েছে বলে দাবি করেছে জেলা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতালের সুপার চিন্ময় বর্মন বলেন, “ পেট না চিরলে ভেতরের অবস্থা টের পাচ্ছিলেন না চিকিৎসকরা। কিন্তু পেট কাটার পর ভয়ানক অবস্থা নজরে পড়ে চিকিৎসকদের। বা দিকের ফুসফুস ফুটো হয়ে গেছে। এছাড়া বৃহদন্ত্র , স্পৃহা মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ্ হয়েছে। সব থেকে বড়ো অসুবিধে সৃষ্টি করেছিল রোগীর হিমোগ্লোবিন ২/৩ এ নেমে গিয়েছিল,রোগী রক্তশূন্যে ভুগতে শুরু করেছিল। সাধারন মানুষের যা ১২/ ১৩ থাকতে হয়। ওদিকে রক্তচাপ ৮০/১৬০।কিন্তু এতো প্রতিকূলতা সত্ত্বেও অসাধারন কাজ করেছেন শল্য চিকিৎসক পবিত্র রায়। একসাথে পেটে বুকে চারটে অপারেশন করে রোগীকে সুস্থ করা হয়েছে। উল্লেখ যোগ্য বিষয় অপারেশনের সময় রোগীকে ৯ বোতল রক্ত দিতে হয়েছে”। এই অপারেশনের শল্য চিকিৎসক পবিত্র রায় বলেন, “ প্রথমে আমরা ভেবেছিলাম শুধু শরীরের নিচের অংশ অজ্ঞান করে এই অপারেশন করা যাবে। কিন্তু পরে সারা শরীর অজ্ঞান করে এই অপারেশন করেছি। তবে রক্তের এই আকালের সময় হাসপাতাল সুপার এ পজেটিভের মতো রক্ত নয় বোতল রক্তের সংস্থান করে দেওয়ায় এই অপারেশন করা সম্ভব হয়েছে। রোগীর পেটের বিভিন্ন অংশ থেকে দেড় লিটার জমাট বাধা রক্ত বের করা হয়েছে। অত্যন্ত ভালো কাজ করেছেন এই হাসপাতালের আরো এক চিকিৎসক রীনা দেব”। সকাল ১০ টা ১৫ মিনিটে এই অপারেশনের পর রোগীকে সিসিইউতে নিয়ে আসা হয়। শুক্রবার রোগীকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।অসুস্থ পিরার ছেলে আশিষ বলেন, “ বাবাকে জীবিত অবস্থায় হাসপাতাল থেকে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে পারবো এটা কোনদিন স্বপ্নেও ভাবতে পারি নি। বাবার পেটের অবস্থা খুব খারাপ ছিলো, পেটের ভিতরের অংশ বের হয়ে পরেছিল। বাবা এখন হেটে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে গাড়িতে উঠছে। যদি ভগবান বলে কেউ থেকে থাকে তাহলে আমার কাছে আমার বাবার অপারেশন করেছেন সেই চিকিৎসকরাই আমার ভগবান”। জানা গেছে কালচিনি ব্লকের পুর্ব সাতালি গ্রামে গ্রামের ৪৩ বছরের পিরা টুডু বাইসনের গুতোয় গুরুতর জখম হন। ১৯ এপ্রিল ভোরে গরু চরাতে গেলে বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের জঙ্গল থেকে একটি বাইসন তার বুকে শিং ঢূকিয়ে দেয়। গুরুতর জখম অবস্থায় পিরাকে আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতালে ভর্তি করেন।মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসতে পেরে নিজেকে ভাগ্যবান মনে করছেন পিরা টুডু।