Home Alipurduar বাবার বিরুদ্ধে জোর করে বিয়ে দেওয়ার অভিযোগ

বাবার বিরুদ্ধে জোর করে বিয়ে দেওয়ার অভিযোগ

158
0

আলিপুরদুয়ারঃ বাবার বিরুদ্ধে এ কেমন অভিযোগ,যা শুনে তাজ্জব গোটা আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহার জেলা,নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। বাবার বিরুদ্ধে ৪৯ বছরের এক ব্যাক্তির কাছে জোর করে বিয়ে দেওয়ার অভিযোগ তুললেন ১৪ বছরের এক নাবালিকা। ওই নাবালিকার আরও অভিযোগ দীর্ঘ এক বছর ধরে তাকে ৪৯ বছরের সেই ব্যাক্তি ধর্ষন করে । বাধা দিলে তাকে মারধর করা হত। দীর্ঘ এক বছরের নির্যাতন থেকে পালিয়ে শনিবার ফালাকাটায় ফিরেছে ওই নাবালিকা । সোমবার মানবিক মুখ নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থ্যার সাহায্য নিয়ে কোচবিহার জেলার ঘোকসাডাঙ্গা থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন ওই নির্যাতিতা। এই ঘটনায় আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহার দুই জেলায় শোরগোল পড়ে গেছে।মদ্যযুগীয় এক বর্বতার নজির ফের প্রকাশ্যে এসেছে। জানা গেছে ,এক বছর আগে আলিপুরদুয়ার জেলার ফালাকাটা থানার অধীন ৩ মাইলের সাত পুকুরিয়া গ্রামের সত্যেন্দ্র দাস তার নাবালিকা মেয়েকে ৪৯ বছরের মনিন্দ্র বিশ্বাসের সাথে মেয়ের অমতেই বিয়ে দেন। মনিন্দ্র কোচবিহার জেলার ঘোকসাডাঙ্গা থানার পুটিমারি বকসির বস এলাকার বাসিন্দা। মনিন্দ্রের বাড়িতেই ২০১৭ সালের ১২ মে বিয়ে দেন মেয়ের। বিনিয়মে তিনি টাকা নেন বলেও অভিযোগ নাবালিকা মেয়ের। এদিন নাবালিকা বলেন, “ আমার মাথায় শুধু সিঁদুর পরিয়ে দিয়ে বিয়ে করে নেয় আমাকে। কোনো সামাজিক অনুষ্ঠান হয়নি। আমি প্রচন্ড কান্নাকাটি করলেও আমাকে ছাড়া হয় নি। তার পর দীর্ঘ এক বছর আমাকে বাড়িতে বন্দী করে রাখা হত। জোর করে লাগাতার আমাকে ধর্ষন করা হত। বাধা দিলে আমাকে ৪৯ বছরের ওই ব্যাক্তি ও তার মা আমাকে মারধর করত। শনিবার আমি পালিয়ে ঘোকসাডাঙ্গা থানায় যাই। তারা আমার অভিযোগ নিতে অস্বীকার করে । আমাকে ফালাকাটা থানায় পাঠানো হয়। সেখানেও আমার অভিযোগ গ্রহন করা হয় না। পরে আমি মানবিক মুখ নামে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সাহায্যে সোমবার ঘোকসাডাঙ্গা থানায় অভিযোগ দায়ের করি। আমি আমার বাবা ও আমাকে বিয়ে করেছিল সেই ব্যাক্তি, তার মায়ের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ জানিয়েছি। আমি চাই এই ঘটনায় দোষিরা শাস্তি পাক”। ফালাকাটা মানবিক মুখের কর্মী পেশায় শিক্ষক ডঃ প্রবীর রায় চৌধুরি বলেন, “ আমরা মেয়েটিকে ফালাকাটা থানায় ঘোরাঘুরি করতে দেখি। তার পর সব শুনে ওর পাশে দাড়াই। পুলিশ অভিযোগ নিয়েছে। ঘটনায় অভিযুক্ত গ্রেফতার না হলে আমরা এই ঘটনা নিয়ে যতদুর যেতে হয় যাবো। মধ্যযুগিয় এই বর্বরতা সহ্য করা যায় না’। ঘোকসাডাঙ্গা থানার ওসি মহিম অধিকারি বলেন, ” অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। পকসো আইনে মামলা করা হয়েছে। মেয়েটিকে শারীরিক পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে।এর পর আদালতে তার জবান বন্দি নেওয়া হবে। অভিযুক্তদের খুব তাড়াতাড়ি গ্রেফতার করা হবে”।