Home Malda যুবককে ধারাল অস্ত্র দিয়ে কোপানোর পর জ্যান্ত পুড়িয়ে মারা হল

যুবককে ধারাল অস্ত্র দিয়ে কোপানোর পর জ্যান্ত পুড়িয়ে মারা হল

88
0
মালদা ০৭ ডিসেম্বর।।  ভিন ধর্মে বিয়ে বা ‘লাভ জেহাদ’। এমতাবস্থায় বিতর্কের আগুন ঘৃতাহুতি করল রাজস্থানের একটি ঘটনা। যেখানে ‘লাভ জেহাদ’-এর অভিযোগ তুলে এক যুবককে ধারাল অস্ত্র দিয়ে কোপানোর পর জ্যান্ত পুড়িয়ে মারা হল অভিযোগ উঠেছে। নৃশংস ঘটনার ভিডিও করে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয় দুষ্কৃতীরা বলে অভিযোগ। ঘটনার বীভৎস্যতায় আতঙ্কিত সাধারণ মানুষ।
একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে ওই ভাইরাল ভিডিওর ক্লিপিং সম্প্রচার হতেই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন।  মূল অভিযুক্ত শম্ভুলাল রেগারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
জানা গিয়েছে, রাজিস্থানের রাজসমন্দ জেলার মহম্মদ আফরাজুল নামে এক শ্রমিককে তুলে নিয়ে আসে ওই অভিযুক্ত এবং তার সঙ্গীরা।পশ্চিমবঙ্গের মালদা জেলার কালিয়াচক থানার সেয়দপুর গ্রামের ওই শ্রমিক কর্মসূত্রে রাজস্থানে গিয়েছিলেন। ভিডিওতে দেখা যায়, ঠিকা শ্রমিক আফরাজুলকে প্রথমে প্রথমে পেছন থেকে আঘাত করে শম্ভুলাল। তারপর তাঁকে দা দিয়ে কোপায় সে। প্রাণভিক্ষা করেও কোনও লাভ হয় না আফরাজুলের।  আফরাজুলের শরীরে অগ্নিসংযোগ করে শম্ভু।
যদিও লাভ জেহাদের অভিযোগ মানতে নারাজ আফরাজুলের পরিবার।মালদার কালিয়াচক থানার সইদপুর গ্রামে বাড়ি আফরাজুলের।বর্তমানে তাঁর গ্রামে শোকের ছায়া। এই ঘটনা এখনও  বিশ্বাস করতে পারছেন না পরিবার সহ গ্রামবাসীরা।সৈয়দপুর গ্রামের বাসিন্দা হাফিজউদ্দিন খানের ছেলে  মোহম্মদ আফরাজুল খান(৫০)।তার স্ত্রীর নাম গুলবার বিবি।তাদের তিন কন্যা সন্তান রয়েছে।দুই মেয়ের বিবাহ হয়েছে এবং এক মেয়ে হাবিবা খাতুন জালালপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্রী। এদিন বাবার নৃশংস মৃত্যুর ঘটনার কথা শুনে গ্রামের বাড়িতে ছুটে আসেন বিবাহিত দুই মেয়ে সাবিন ও রাজিয়া। দেওয়ালে মাথা ঠুকে কান্নায় বারবার জান হারায় তারা। পরিবারের বড়দের কান্নাকাটি করতে দেখে বাড়ির খুদেরাও চোখের জলে চিৎকার করতে থাকে।
মৃত আফরাজুলের স্ত্রী বলেন,প্রায় ২০ বছর ধরে ভিনরাজ্যে ঠিকা শ্রমিকের কাজের সঙ্গে জড়িত ছিলেন আফরাজুল।বুধবার রাতে গ্রামবাসীদের মোবাইলে সামীকে খুন করার ভিডিও দেখতে পাই। জানতে পারি ওকে নাকি  পর মহিলাকে বিয়ে করার অজুহাতে মারা হয়েছে । আমার পরিবারে ওই একমাত্র রোজগারের উতস ছিল। আমার বড় দুই মেয়ের বিয়ে হয়েছে, নাতি, নাতনিরা আছে। ও বিয়ে করবে মিথ্যা কথা। সামীকে সড়যন্ত্র করে এভাবে মারা হয়েছে।
গ্রামবাসীরা বলেন, আফরাজুল খুবই শান্ত প্রকৃতির। আজেবাজে সভাও ছিল না। আর বিবাহিত হয়ে অন্য কাউকে বিয়ে  করবে বিশাস করা যাচ্ছে না।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সেয়দপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায় কান্নায় ভেংগে পড়েছে আফরাজুলের পরিবার। তাদের শান্তনা দিচ্ছেন গ্রামবাসীরা। সকলের চোখে মুখে শুধু ক্ষোভ। তাদের দাবি
দোষীর ফাঁসি চাই।