Home Malda মোবাইল টাওয়ারে উঠে আত্মহত্যার চেস্টা

মোবাইল টাওয়ারে উঠে আত্মহত্যার চেস্টা

235
0
commit suicide
Tried to commit suicide in the mobile tower

মালদা: “বাসন্তি মেই জা রাহা হু” হিন্দি সিনেমা সোলে-র ধরমেন্দ্র এই ডায়ালোগ কে না জানে। ঠিক এমনই বাসন্তীর প্রেমে মসগুল এক কালিয়াচকের যুবক ব্যথ হয়ে ১০০ ফিট মোবাইল টাওয়ারে উঠে আত্মহত্যার চেস্টা চালালো। আর তাকে নামানো নিয়ে সকাল
৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬ টা পযন্ত চললো নাটক। রবিবার ঘটনাটি ঘটেছে কালিয়াচক থানার দারিয়াপুর এলাকায়।
৩৪ নম্বর  জাতীয় সড়ক সংলগ্ন ওই এলাকায় হাজার হাজার মানুষ টাওয়ারের নিচে ভিড় জমায়, ওই যুবককে নিচে নামিয়ে আসার জন্য। খবর পেয়ে হাজির হয় পুলিস ও দমকল। তবুও নিচে নামিয়ে আনা সম্ভব হয় নি ওই যুবককে। প্রায় ১০ ঘন্টা ওই অবস্থায় তীব্র ঠান্ডায় ঠাঁই দাঁড়িয়ে ছিলেন ওই যুবক। প্রায় ১০০ ফুটের টাওয়ার। টাওয়ারের শেষ মাথায় গিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন তিনি। পুলিসও টাওয়ারে উঠতে সাহস দেখাচ্ছিল না। কারণ পুলিসকে দেখে যদি ওই যুবক সত্যি সত্যিই টাওয়ার থেকে ঝাঁপ দিয়ে ফেলেন। এলাকার মানুষদের কথাতেও নেমে আসতে রাজি হন নি তিনি। শেষে বিকেল সাড়ে ৫ টার দিকে পাখির ঠোকর খেয়ে নিজেই নেমে আসেন তিনি। যদিও মুখ খুলতে চান নি তিনি। কেউ জোরও করেন নি তাঁকে মুখ খোলার জন্য। প্রাথমিক তদন্তে পুলিস জানিয়েছে, প্রেমে ব্যর্থ হয়ে আত্মহত্যার কথা ভেবেছিলেন তিনি। ভাবতে পারেন নি গ্রামসুদ্ধ লোক এসে হাজির হবেন টাওয়ারের নিচে। খবর পেয়ে হাজির ছিলেন তাঁর পরিবারের লোকেরা। নিচ থেকে তাঁকে নামার জন্য অনুরোধ করলেও, সেই কথা উপরে গিয়ে পৌঁছচ্ছিল না। তাঁর সঙ্গে মোবাইবে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হতে হয়। তিনি নিজের মোবাইলটি বন্ধ করে ফেলেন। জানা গেছে, যুবকের নাম মামুদ শেখ(‌২০)‌। কালিয়াচক থানার দাঁড়িয়াপুরে তাঁর বাড়ি। এদিন সকাল ১০টা নাগাদ তখন যে যার কাজে ব্যস্ত ছিলেন। এমনিতে প্রবল শৈত্য প্রবাহ। এলাকা তখনও কুয়াশার চাদরে ঢাকা। স্বাভাবিক ভাবে বাইরে লোকজনের সমাগম ছিল তুলনামূলক কম। ওই সময় সবার অলক্ষ্যে নিজে নিজেই মামুদ টাওয়ারের কাছে এসে উঠতে শুরু করেন। কেউ দেখার আগে বেশ কিছুটা ওপরে চলে গেছেন তিনি। পরে তাঁকে দেখতে পেয়ে লোকজনের সমায়েত হতে থাকে। নিচ থেকে চিৎকার করে নামার জন্য বলা হয়। ততই টাওয়ারের মাথার দিকে যেতে থাকেন তিনি। শেষে গিয়ে পৌঁছেও যান। কিন্তু কিছুতেই নামানো সম্ভব হয় নি তাঁকে। পরে পরিবারের লোকেদের খবর দেওয়া হয়। খবর যায় পুলিস ও দমকলে। স্থানীয়রা জানান, ‘‌এমনিতে শান্ত স্বভাবের মামুদ। কিন্তু এদিন ওমন করতে গেল, ওর মতো ছেলের কথা ভাবাই যায় না!‌ আমাদেরও মনে হচ্ছে, প্রেম ঘটিত ব্যাপার হতে পারে। যাই হোক শেষ পর্যন্ত বাঁচানো সম্ভব হয়েছে তাঁকে।’‌