Home Uncategorized বিবস্ত্র করে মাটিতে ফেলে  নাবালিকাকে মারধোর

বিবস্ত্র করে মাটিতে ফেলে  নাবালিকাকে মারধোর

187
0
জলপাইগুড়ি, ২১ এপ্রিল : বিবস্ত্র করে মাটিতে ফেলে  নাবালিকা কে মারধোর করা হলেও, অভিযুক্ত দের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ। ঘটনার বেশ কয়েক দিন হয়ে যাওয়ার পরেও পুলিশের এই ভুমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি শনিবার  বাধ্য হয়েই জেলা পুলিশ সুপার এবং হিউম্যান রাইটস সংস্থার দ্বারস্থ হলো নাবালিকার পরিবার। এদিকে ঘটনার পর থেকে ওই নাবালিকা মানসিক ভাবে ভেঙ্গে পরেছে বলে পরিবারের দাবি। আগামী মঙ্গলবার থেকে কিশোরীর ইউনিট টেস্ট  পরীক্ষা।  সেই পরীক্ষা দেবার জন্যও সে স্কুলে যেতে চাইছে না বলে জানান হয়েছে পরিবারের পক্ষ থেকে।ঘটনাটি ঘটে ছিলো চলতি মাসের ৮ তারিখে। এদিন জেলা পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ জানাতে এসে নাবালিকার মা হিমানি রায়  জানিয়েছেন,  ওই দিন  তাদের একটি বাছুর প্রতিবেশীর ধান ক্ষেতে ঢুকে পরে ছিলো। যে কারনে  বাছুর টিকে প্রতিবেশী নানু বর্মন তার বাড়িতে আটকে রাখে। ওই দিন দুপুর নাগাদ তার ১৪ বছরের মেয়ে বাছুর আনতে যায় নানু বর্মনের বাড়িতে। কিন্তু নানু বর্মন এবং তার পরিবারের সদস্যরা বাছুর ফেরৎ না দিয়ে মেয়ের সাথে বচসা জুরে দেয়। শুধু তাই নয় বাছুর কেনো ধান ক্ষেতে ঢুকে ছিলো এই বিষয় কে সামনে এনে মেয়েকে শাস্তি দেবার জন্য প্রকাশ্যে বিবস্ত্র করে মারধোর করে। দায়ের হাতল দিয়ে মেয়ের বুকে আঘাত করা হয়। এমনকি গলায় দড়ি পেঁচিয়ে ফাঁস লাগানর চেষ্টা করা হয়ে ছিলো বলেও দাবি করা করেছেন নাবালিকার মা। তিনি বলেন মেয়ের চিৎকার শুনে নানু বর্মনের বাড়িতে যান তিনি।  গিয়ে দেখেন মেয়ে বিবস্ত্র অবস্থায় নিজের অব্রু বাঁচাতে মাটিতে উপুর হয়ে পরে আছে। ঘটনার প্রতিবাদ করায়  তাকেও মারধোর করা হয়। এর পরে অন্যান্য প্রতিবেশীরা এসে তাদের উদ্ধার করে বলে জানিয়েছেন নাবালিকার মা।মারধরের কারনে জখম হওয়া মেয়েকে প্রথমে ময়নাগুড়ি হাসপাতাল, এবং সেখান থেকে জলপাইগুড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে এনে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে তিন দিন চিকিৎসা চলার পরে ছুটি দেওয়া হলেও মেয়ে এখন পর্যন্ত বিবস্ত্র করে মারধোর করার ঘটনা থেকে বেড়িয়ে আসতে পারেনি বলে জানিয়েছেন তিনি। নবম শ্রেনীর ওই ছাত্রীর ইউনিট টেস্ট শুরু হচ্ছে আগামী মঙ্গলবার থেকে। পরিস্থিতি এমন হয়েছে প্রকাশ্যে বেড়িয়ে বিদ্যালয়ে যেতে চাইছেনা সে।এদিন এই বিষয়ে জলপাইগুড়ি জেলা আদালতের বিশিষ্ট আইনজীবী সন্দীপ দত্তের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলে, নাবালিকা কে বিবস্ত্র করে মারধোর করার অভিযোগ করা হয়েছে। সেই দিক থেকে এটা সেক্সুয়াল হেরেজমেন্টে করা হয়েছে।  সেই দিক থেকে এটা পকসো আইনে মামলা দায়ের করা যেতে পারে।এদিকে এদিন দুপুরে নাবালিকার  পরিবারের পক্ষ থেকে জেলা পুলিশ সুপারের সাথে দেখা করা হয়, সেই সাথে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবার দাবি করা হয়েছে। জেলা পুলিশ সুপার অমিতাভ মাইতি জানিয়েছেন এই ঘটনার অভিযোগ তারা আগেও পেয়ে ছিলেন, তদন্ত করা হয়েছিলো। তবে আবারও এই ঘটনার তদন্ত করা হবে বলে তিনি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন ময়নাগুড়ি থানাকে l

Facebook Comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here