Home Uncategorized জলপাইগুড়ি শহরেও বনধের সাড়া পড়েছে

জলপাইগুড়ি শহরেও বনধের সাড়া পড়েছে

155
0

জলপাইগুড়ি ,২৬ সেপ্টেম্বর : ভারতীয় জনতা পার্টির ডাকা ১২ ঘন্টা রাজ্য বনধে জলপাইগুড়ি শহরের সারা পড়েছে । স্কুল কলেজ খুললেও ছাত্র সংখ্যা কম। দোকান পাট বন্ধ। শহরের বয়েল খানা বাজার, স্টেশন বাজার খোলা ছিল। দিন বাজার প্রায় বন্ধ। রাস্তা ঘাটে তুলনামূলক ভাবে লোক সংখ্যা কম। চা বাগানে ছিল প্রায় স্বাভাবিক। বুধবার সকালে শান্তি পাড়ার উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহন সংস্থা থেকে বাস চললেও যাত্রী সংখ্যা তুলনামূলক ভাবে কম। রাস্তায় মোড়ে পুলিশ মোতায়ান করা হয়েছে। রোড স্টেশনে ট্রেন চললেও টাউন স্টেশনে বিজেপি নেতা কর্মীরা ট্রেন আটক বিক্ষোভ দেখায়। শহর জুড়ে পুলিশের টহল দাড়ি চলছে। ডি এস পি প্রদীপ সরকার ও কোতয়ালী আই সি বিশ্বাশ্রয় সরকারের নেতৃত্বে র‍্যাফ বাহিনী শহর জুড়ে টহল দিচ্ছে। বনধ ব্যার্থ করতে রাস্তায় যুব তৃনমূল মিছিল। অভিযোগ লাঠিসোটা হাতে নিয়ে জোর করে বন্ধ ভাঙ্গার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ। নেতৃত্বে ছিলেন সৈকত চ্যাটাজি। শহরের কদমতলা, দিনবাজার, হয়ে জেলা দায়রা আদালতে এসে হাজির হয় মিছিলটি। যে সব দোকান বন্ধ ছিল সেই দোকান গুলি জোড় করে খুলে দেয় তৃনমূল যুব নেতা কর্মীরা। আদালতের সামনে বিজেপি কর্মীদের সাথে বচসার সৃষ্টি হলেও পুলিশের উপস্থিতিতে মিটে যায়। সৈতক চ্যাটাজির নেতৃত্বে আন্দোলন কারি বিজেপি নেতৃত্বের হাত থেকে দলীয় পতাকা ছিনিয়ে নেয় বলে অভিযোগ। শুধু তাই নয় বনধ করা যাবে বলে হুশিয়ারিও দেন বলে অভিযোগ। অন্যদিকে কলেজ ব্যাঙ্কের সামনে বিজেপি দলীয় পতাকা পুলিশ গিয়ে খুলে দিলেন। ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে বিজেপি পাল্টা বনধের সমর্থনে মিছিল বের করেন শহর জুড়ে। নেতৃত্বে ছিলেন বিজেপি জেলা সাধারন সম্পাদক বাপী গোস্বামী ও যুব মোর্চার জেলা সভাপতি শ্যাম প্রসাদ। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের সামনে বিজেপি নেতা কর্মীরা হাজির হয়। শিক্ষা সংসদে গেটে দলীয় পতাকা লাগিয়ে চলে বিক্ষোভ। অবশেষে পুলিশ ও র‍্যাফ বাহিনি এসে গেট খুলে দেয়। জেলা শাসক দফতর সহ অনান্য অফিস গুলিতে কর্মীদের হাজিয়া ছিল স্বাভাবিক। জোর করে সরকারি বাস আটকানোর অভিযোগে রাহুতবাগান থেকে আটক ৪জন বিজেপি কর্মী। এখন পর্যন্ত আটক সংখ্যা ২৫ থেকে ৩০। শহরে টাউন স্টেশনে বিজেপি নেতা কর্মীরা হলদিবাড়ি এন জে পি প্যাসেঞ্জার ট্রেন আটকে দিয়ে বেশ কিছুক্ষন চলে বিক্ষোভ। যাত্রীরা নাজেহাল। রোড স্টেশনে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক। তবে যাত্রী সংখ্যা অনেকটাই কম। স্টেশনের বাইরের দোকান পাট বন্ধ ছিল। শহর ও শহরতলী একাধিক এলাকায় রাস্তায় বিজেপি নেতৃত্বরা উপস্থিত ছিলেন। এদিন দুপুরে জেলা সভাপতি সৌরভ চক্রবর্তী নেতৃত্বে বনধ বিরোধি মিছিল বের করা হয় উকিল পাড়ার জেলা পার্টি অফিস থেকে। বিভিন্ন সপিং মলে গিয়ে মল খুলে দেয় নেতৃত্বরা। যারা দোকান খুলেছেন তাদের হাতে অভিনব কায়দায় লাল গোলাপ ও লাড্ডু তুলে দেয় দলের নেতা কর্মীরা। শহরের বিভিন্ন প্রান্ত পরিক্রমা করেন মিছিলটি। উপস্থিত ছিলেন সাংসদ বিজয় চন্দ বর্মন, পৌরপিতা মোহন বোস সহ অন্যান্য নেতা কর্মীরা। বিজেপি সাধারন সম্পাদক বাপী গোশ্বামী বলেন, “বনধে সাধারন মানুষ আমাদের সমর্থন করেছে সকলকে জানাই ধন্যবাদ। পুলিশ ও তৃনমূল এক হয়ে বনধ ভাঙার চেষ্টা চালাচ্ছে”। যুব তৃনমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি সৈকত চ্যাটাজি বলেন, ” জাতি দাঙ্গা লাগতে চাইছে বিজেপি। ইসলামপুরের ঘটনায় পিছনে বিজেপি হাত রয়েছে। আমরা সকল দোকান খুলে দিয়েছি। জলপাইগুড়ি বিভাগীয় শহরে বিজেপি তান্দব করবে বলেছিল। কালকে ওরা ছিল বাঘ আজকে বিড়াল হয়ে ঢুকে গেছে”। তৃনমূল জেলা সভাপতি সৌরভ চক্রবর্তী বলেন, “সকলে যে ভাবে বনধ বিরোধিতে সামিল হয়েছে তাই আমরা সকলকে মিষ্টি মুখ করালাম ও গোলাপ দিলাম।

Facebook Comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here