Home Uncategorized মালদা বইমেলা নিয়ে আবেগতাড়িত আফসার আহমেদ

মালদা বইমেলা নিয়ে আবেগতাড়িত আফসার আহমেদ

689
0

মালদা, ১৭ জানুয়ারি :  মালদহ জেলা বইমেলার উষ্ণতা মুগ্ধ করল সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত সাহিত্যিক আফসার আহমেদকে। বুধবার বিকেলে ২৯তম মালদহ বই মেলার উদ্বোধন করেন ২০১৭ সালের সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কারে ভূষিত এই প্রখ্যাত বাঙলা সাহিত্যক। সঙ্গে ছিলেন জেলা পরিষদের সভাধিপতি সরলা মূরমূ, ইংরেজবাজার পুরসভার চেয়ারম্যান ও বিধায়ক নীহার ঘোষ, জেলাশাসক কৌশিক ভট্টাচার্য, পুলিশ সুপার অর্ণব ঘোষ সহ জেলা প্রশাসনের একাধিক পদস্থ আধিকারিক ছাড়াও রামকৃষ্ণ মঠ সারদাপীঠের সম্পাদক স্বামী দিব্যানন্দ এবং দুই ‘বঙ্গরত্ন’ শিক্ষাবিদ ড. রাধাগোবিন্দ ঘোষ এবং শক্তিপদ পাত্র।
উল্লেখ্য, রাজ্যের বইপ্রেমীদের বক্তব্য অনুযায়ী মালদহ জেলা বইমেলা এ রাজ্যের দ্বিতীয় বৃহত্তম বইমেলা। কলকাতা বইমেলার পরেই প্রকাশকদের অংশগ্রহণ, ব্যাপকতা এবং জনজোয়ারেই মালদহ বইমেলা এই শিরোপা ছিনিয়ে নিয়েছে বলে দাবী সংগঠকেদেরও।
বইমেলার উদ্বোধনের আগে আফসার আমেদ বলেন, সকাল থেকেই বইমেলাকে কেন্দ্র করে জেলা জুড়ে সাজোসাজো রব আমাকে মুগ্ধ করেছে। আমি কলকাতা বইমেলাতেও বহুবার অংশ নিয়েছি। পরিসরে হয়তো কলকাতা বইমেলা অনেকটাই বড়। বাণিজ্যিকভাবেও কলকাতা বইমেলার সাফল্য প্রশ্নাতীত। কিন্তু মালদহ বইমেলাকে ঘিরে সাধারণ মানুষের এই তীব্র আবেগ উত্তরবঙ্গের একটি জেলা’র বইমেলাকে অন্য মাত্রা দিয়েছে। আবেগ এবং উষ্ণতায় কলকাতা বইমেলার থেকে কোনো অংশে পিছিয়ে নেই মালদহ বইমেলা।
পাশাপাশি, ভার্চুয়াল লাইব্রেরি কিংবা লেখালেখি কখনই প্রথাগত পুস্তকের বিকল্প হয়ে উঠতে পারবে না বলেও দাবী করেন এই বিশিষ্ট সাহিত্যক। তিনি বলেন, সভ্যতার আবিষ্কারের মধ্যে অন্যতম উল্লেখযোগ্য আবিষ্কার হ’ল বই। সুতরাং কম্পিউটারের চোখ বুলিয়ে পড়ার সঙ্গে নিজের হাতে পাতা উল্টে বই পড়ার আবেগের তুলনা হয় না। এই উষ্ণতাই কাগুজে বইকে চিরন্তন করে রাখবে।
বই পড়া যে কিভাবে মানুষের জীবন বদলে দিতে পারে তার ব্যাখ্যা দেন স্বামী দিব্যানন্দ মহারাজও। মালদহ বইমেলার টানে যতদিন বাঁচবেন ততদিনই আমন্ত্রণ পেলে তিনি মালদহে ছুটে আসবেন বলে জানান এই প্রবীণ শিক্ষাবিদ সন্ন্যাসী।
মালদহ বইমেলা কমিটির যুগ্ম সম্পাদক অম্লান ভাদুড়ি জানান, এ বছর বইমেলায় মূল মঞ্চটি হয়েছে ভগিনী নিবেদিতার নামানুসারে। এছাড়াও বিবিধ আলোচনার জন্য রয়েছে বিকালের ব্যালকনি। দ্বিতীয় সাংস্কৃতিক মঞ্চের নামকরণ করা হয়েছে সদ্য প্রয়াত শিক্ষাবিদ সন্তোষ চক্রবর্তীর স্মরণে। বইমেলা চলবে ১৭ থেকে ২৪ জানুয়ারি।
বইমেলা কমিটির পক্ষে অন্যতম উদ্যোক্তা সুমালা আগরওয়ালা বলেন, ২৯তম মালদহ বইমেলায় স্টল রয়েছে ২২০টি। এরমধ্যে বইয়ের স্টল থাকছে ১৫০টি। সাতদিন ধরে আলোচনাবাসরের পাশাপাশি থাকছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও।
এদিন সকালে বৃন্দাবনি ময়দান থেকে শুরু হয় বর্ণাঢ্য বই মিছিল। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি অংশ নেন প্রায় ৮০০০ ছাত্রছাত্রী এবং পুস্তকপ্রেমীও।

Facebook Comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here